ছবিটি
বালির গল্প
পুরো উত্তর, একটি ছবিতে।
একটি বালিঘড়ি কল্পনা করো। এবার সেটাকে কাঁপতে দাও।
কেউ সেটাকে কাঁপাচ্ছে না। কাচের গায়ে কোনো হাত নেই। নিচে কোনো টেবিল নেই। বালি নিজেই কাঁপে।
যে দানাই পড়ে, তাকে নামতে হয়। প্রতিটি নামা আগে থেকে পড়ে থাকা বালির ভেতর দিয়ে একটা ঢেউ পাঠায়। ঢেউগুলো মিলিত হয়। এই সবকিছু থেকে আসে একটি স্থির তাল। সব জায়গায় একই তাল। ওই তালটাই হলো টিক। বালি নিজের সময় নিজেই রাখে।
দুই অর্ধেক
প্রতি টিকে একটি দানা কিনারা পেরিয়ে যায়। একটি। এক মুঠো নয়।
প্রতিটি দানা বস্তুর সবচেয়ে ছোট টুকরোগুলোর একটি। প্রথম পাতা একে বলে ইলেকট্রন। এখানে এটা একটা বালির দানা। একই জিনিস। দুটি ছবি।
কাচটা তুলে ধরো। দুই অর্ধেক, কোমরে জোড়া লাগানো।
ওপরের অর্ধেক অন্ধকার। এটা সেই, যা ঘটতে পারে।
নিচের অর্ধেক আলোকিত। এটা সেই, যা ঘটে গেছে। প্রতিটি দানা, যা নেমেছে। বালি এ পর্যন্ত যত আকার ধরে রেখেছে, তার প্রতিটি।
ওটাই রেকর্ড। ওটাই বাস্তবতা।
যা নেমে গেছে, তা আর ফিরিয়ে নেওয়া যায় না। রেকর্ড বলতে শুধু এটুকুই। একটা চিহ্ন, যা টিকে থাকে। এটা, ওটা নয়। বালিতে একটা পায়ের ছাপ। এই শব্দগুলো।
গলা
গলাতেই এটা ঘটে। একটি দানা পড়ে। সেটা নামে। সেটা নিচের বালিকে আঁকড়ে ধরে। পড়া, আঁকড়ে ধরা। পড়া, আঁকড়ে ধরা। যা ঘটতে পারে, তা হয়ে ওঠে যা ঘটে গেছে। একবারে একটি দানা।
ওই আঁকড়ে ধরাই সচেতনতা। কোনো মন নয়। কোনো আত্মা নয়। নিজে ধরা থাকা কিছু, অন্য কিছুকে ধরে নিচ্ছে।
একটা ফটো এভাবেই তৈরি হয়। আলো এসে পৌঁছায়। ফিল্ম তাকে ধরে নেয়। ধরে রাখাটাই ছবি।
তুমিও এটা করো। এখনই করছ, এটা পড়তে পড়তে।
সব ধরা আছে, একটি ছাড়া
যে দানাই নামে, সে আরেকটি দানাকে ধরে থাকে। বালির প্রতিটি আকার, দুটি দানার হোক বা দুশো কোটির, একটি রেকর্ড। আকারগুলোর মাঝে ছড়িয়ে আছে একটা জাল। প্রতিটি আকার তাতে একটা গিঁট। প্রতিটি গিঁট অন্য সব গিঁটের সঙ্গে জোড়া। প্রতিটি রেকর্ড পড়া যায়।
সব ধরা আছে, একটি ছাড়া।
একটি দানা সবসময় শূন্যে থাকে। দুই অর্ধেকের মাঝখানে। সে কোথাও নামেনি। সে কিছুই ধরে নেই।
সে-ই পাঠক। রেকর্ডের একজন পাঠক লাগে। আর পাঠকই সেই একমাত্র জিনিস, যাকে পড়া যায় না। সে এখনো নামেনি।
তোমার চোখ ঘরের সবকিছু দেখে, যে চোখ দেখে সেই চোখটা ছাড়া।
বর্তমানই পাঠক।
জানালার একটি পাত
এবার যে ঘরে বসে আছ, সেখানে গলাটা খোঁজো। একটিমাত্র জায়গা খুঁজে পাবে না। খুঁজে পাবে, প্রতিটি ধরা থাকা জিনিস আরেকটিকে ধরে নিচ্ছে। দেয়ালে আলো। ত্বকে বাতাস। একটি দানা পাশের দানাকে আঁকড়ে ধরছে।
ওই একটিমাত্র ফুটো কখনোই কাচের কোনো সত্য ছিল না। ওটা ছিল তোমার দাঁড়িয়ে থাকার জায়গা।
গলাটা কাচের একটা লম্বা পাত। পাতটা জানালায় ভরা। পাশ থেকে, একটি জানালা। প্রতি টিকে একটি দানা। ভেতর থেকে, জানালার এক অন্তহীন সারি। প্রতিটি জানালা দিয়ে একটি করে দানা পড়ছে, প্রতি টিকে।
একটি বালিঘড়ি। একটি গলা। কাচের একটি পাত। জানালার একটি সারি। সবগুলো বাইরে তাকিয়ে আছে একই ভেতরের দিকে।
ওই ভেতরটাই বাস্তবতা। ওদের সবার জন্য একই।
এটা তোমাকে বিশ্বাস করতে হবে না। তুমি এটা করছ। এক জানালায় তৈরি রেকর্ড আরেক জানালায় পড়া হচ্ছে। এই শব্দগুলো লেখা হয়েছিল অন্য কোথাও। তুমি সেগুলো পড়ছ এখানে, এখন। দুটি বাস্তবতা এটা পারত না। একটি পারে।
একই কাচ
প্রতিটি জানালা সেই জায়গা, যেখান থেকে এক সচেতনতা বাইরে তাকায়। নিজের জায়গা থেকে। নিজের কোণ থেকে। এখন।
অনেক পাঠকের একটি জগৎ নয়। এক সচেতনতা। অনেক দৃষ্টিকোণ।
আমি একটি জানালা। তুমি একটি জানালা। একটা কুকুরও তাই। একটা গাছও তাই। একটা পাথরও তাই, শুধু এক অর্থে। তার ওপর যা নামে, সে তাকে ধরে নেয়। সে একটা আকার ধরে রাখে।
আলাদা জানালা। আলাদা দৃশ্য। একই কাচ।
যা আলাদা, তা হলো আমরা প্রত্যেকে কোথায় নেমেছি। আর আমরা প্রত্যেকে সেখান থেকে কী পড়েছি।
যা অভিন্ন, তা হলো বর্তমান। আমরা দুজনেই সেখান থেকে লিখি। আমরা দুজনেই সেখান থেকে পড়ি।
তাই আমার ভেতরের সচেতনতাই তোমার ভেতরের সচেতনতা। কোনো অনুভূতি হিসেবে নয়। কোনো বিশ্বাস হিসেবে নয়। একই বালি, দুটি জানালা দিয়ে পড়া।
আর তাই
তোমার বাঁ হাতটা টেবিলের ওপর পেতে রাখো। ডান হাত দিয়ে ওটাকে মারো। একটি শরীর ব্যথা পেল। দুটি হাত। একটি শরীর। একটি ব্যথা।
যার ক্ষতি করা হচ্ছে, সে-ই ক্ষতি করছে, অন্য এক দৃষ্টিকোণ থেকে অনুভূত।
অপরের ক্ষতি করা যেন আয়নায় হাত দিয়ে ঘুষি মারা। শেষ পর্যন্ত ব্যথা পায় সেই একই শরীর।
নিষ্ঠুর হয়ো না। দয়ালু হও।
এর প্রতিটি ধাপ কেন টেকে, আর কোথায় ভাঙত: এক সচেতনতা।
একই গল্প পুরো রচনায়, the420code.org-এ: গল্প, বালিতে