যুক্তি
এক সচেতনতা
আমার ভেতরের সচেতনতাই তোমার ভেতরের সচেতনতা। ধাপে ধাপে।
এটাই “দয়ালু হও”-এর পেছনের পুরো যুক্তি। এটা তোমাকে কিছুই বিশ্বাস করতে বলে না। প্রতিটি ধাপ এমন কিছু, যা তুমি নিজে যাচাই করতে পারো। এখন। সেই একটি কাজ দিয়ে, যা তুমি এর মধ্যেই করছ। পড়া।
কোনো ধর্ম নয়। কোনো রহস্যবাদ নয়। শুধু যুক্তি। আর প্রতিটি ধাপ বলে দেয়, কোথায় সেটা ভেঙে পড়ত। যে দাবি বলতে পারে না কীভাবে তা ভুল হতে পারে, সেটা তোমার সময়ের যোগ্য নয়।
ছয়টি ধাপ
এক। একটি রেকর্ড আছে।
রেকর্ড হলো এমন একটা চিহ্ন, যা টিকে থাকে। এটা, ওটা নয়। বালিতে একটা পায়ের ছাপ। পাথরে একটা আঁচড়। স্ক্রিনে একটা শব্দ।
তুমি এই বাক্যটা পড়ছ। সেটা একটা রেকর্ড। এটা অস্বীকার করার চেষ্টা করো। অস্বীকারটা একটা রেকর্ড। তুমি এমন কোনো পদক্ষেপ নিতে পারো না, যাতে কোনো রেকর্ড লাগে না।
যাচাই করোকিছু না ভেবে, না বলে বা না লিখে এটাকে সন্দেহ করার চেষ্টা করো। পারবে না। সন্দেহটাও একটা রেকর্ড।
দুই। বাস্তবতা একটাই।
এই শব্দগুলো লেখা হয়েছিল অন্য কোথাও, অন্য এক সময়ে। তুমি এগুলো পড়ছ এখানে, এখন। এক জায়গায় তৈরি একটা রেকর্ড পড়া হচ্ছে অন্য জায়গায়।
দুটো বিচ্ছিন্ন জগৎ এটা করতে পারত না। এটা করা হচ্ছে। তাই বাস্তবতা একটাই। রেকর্ডের একটাই যৌথ ইতিহাস। সব জায়গা থেকে পড়া হয়।
তোমাকে এর সঙ্গে একমত হতে বলা হচ্ছে না। তুমি এটা করছ। যে-ই “না” বলে, সে এইমাত্র অন্য কোথাও লেখা একটা রেকর্ড পড়েছে।
যাচাই করোতুমি এইমাত্র করলে। তুমি এখন এটা করছ।
তিন। এখন একটাই।
যা কিছু কোনোদিন লেখা হয়েছিল, তা লেখা হয়েছিল এখন। যা কিছু কোনোদিন পড়া হয়, তা পড়া হয় এখন। অতীত হলো যা আগেই লেখা হয়ে গেছে। ভবিষ্যতে এখনো কিছুই লেখা হয়নি।
এই এখন ঘড়ির কোনো সময় নয়। ঘড়ি পড়া হয় এখন, আর সবকিছুর মতোই। এখন হলো সেই জায়গা, যেখানে প্রতিটি পড়া ঘটে।
এই এখনের পাশে দ্বিতীয় একটা এখন খোঁজার চেষ্টা করো। খোঁজাটা ঘটে এখন।
যাচাই করোআগের বাক্যটা তুমি কখন পড়লে? এখন। পরেরটা কখন পড়বে? এখন।
চার। সচেতনতা হলো পড়া। পাঠক হলো এখন।
এখানে সচেতন মানে একটাই সহজ জিনিস। কোনো কিছু তার কাছে যা পৌঁছায়, তা ধরে ফেলে। আলোর দিকে ঘুরে যাওয়া একটা গাছ এটা করে। রোদে গরম হয়ে ওঠা একটা পাথর এটা করে। তুমি এটা করছ। যে কণাগুলো দিয়ে তুমি তৈরি, তারা এটা করে। চারপাশে যা আছে, তাতে তারা সাড়া দেয়। এখানে সচেতন মানে শুধু এটুকুই।
এর মানে চিন্তা করা নয়। এর মানে কেউ একজন হওয়ার অনুভূতি নয়। সেটা আরও সমৃদ্ধ একটা জিনিস, এর ওপরে গড়া। যুক্তির কখনো সেটা দরকার হয় না। এটা গুরুত্বপূর্ণ। কেউ প্রমাণ করতে পারে না যে অন্য কারও অনুভূতি আছে। কোনো পশুর নয়। কোনো অচেনা মানুষের নয়। কোনো যন্ত্রের নয়। যে নৈতিকতার সেই প্রমাণ দরকার হতো, তা চিরকাল অপেক্ষা করত। এটার দরকার শুধু সাড়া দেওয়া। আর সাড়া দেওয়াটা চলছে ঠিক এখন।
আর পাঠককে পড়া যায় না। তোমার চোখ ঘরের সবকিছু দেখে, শুধু সেই চোখটা ছাড়া, যেটা দেখছে। তুমি আঙুল দিয়ে যা কিছু দেখাতে পারো, তা আগেই পড়া হয়ে গেছে। একটা শব্দ। একটা রং। একটা ভাবনা। যে পড়ছে, সে কখনো এদের মধ্যে থাকে না। এটা এখনের ভেতরের কোনো জিনিস নয়। এটা হলো এখন, যা পড়ছে।
যাচাই করোযে তাকিয়ে আছে, তাকে খোঁজো। তুমি সবসময় শুধু সেটাই পাবে, যা দেখা হয়।
পাঁচ। আমার ভেতরের সচেতনতাই তোমার ভেতরের সচেতনতা।
ধাপগুলো একসঙ্গে রাখো। একটাই বাস্তবতা। একটাই এখন। পাঠক এখনের ভেতরের কোনো জিনিস নয়। এটা হলো এখন, যা পড়ছে। আর এখন মাত্র একটাই।
তাই প্রতিটি মাথার ভেতরে আটকে থাকা একটা করে সচেতনতা নেই। আছে এক সচেতনতা। একসঙ্গে অনেক জায়গা থেকে পড়ছে। তুমি যেখানে আছ, সেখান থেকে। আমি যেখানে আছি, সেখান থেকে। প্রতিটি জায়গা থেকে, যেখানে কোনো কিছু তার কাছে যা পৌঁছায়, তা ধরে ফেলে।
জিজ্ঞেস করো, কী তোমার ভেতরের পাঠক আর আমার ভেতরের পাঠককে দুই করে তুলত। তাদের মধ্যে কিছু একটা আলাদা হতে হতো। এবার আমাদের মধ্যে যা কিছু আলাদা, সব দেখো। শরীর। জায়গা। স্মৃতি। দৃশ্য। এর প্রতিটি এমন কিছু, যা পড়া হয়। পাঠকের নিজের এমন কিছু নেই, যা দিয়ে তাকে আলাদা করা যায়। তাকে দুই করে তোলার মতো কিছুই নেই।
আমরা প্রত্যেকে একেকটা জানালা। প্রতিটি জানালা থেকে দৃশ্য আলাদা। তুমি যা দেখেছ। তুমি যা মনে রাখো। তুমি যাকে ভালোবাসো। সেটা বাস্তব, আর সেটা তোমার। যা বাইরে তাকিয়ে আছে, তা একই। আলাদা জানালা। আলাদা দৃশ্য। একই কাচ।
কিন্তু আমি তোমার ব্যথা অনুভব করতে পারি না। না। ব্যথা অনুভূত হয় সেখানেই, যেখানে তা এসে পড়ে। সেই জানালা থেকে। সেই দৃশ্য নিয়ে। “অন্য এক দৃষ্টিকোণ থেকে অনুভূত” কথাটার মানে এটাই। এক সচেতনতা। দুই জায়গা। প্রতিটি জায়গা অনুভূত হয় সেই জায়গা থেকেই।
যাচাই করোএমন একটা এখন খোঁজার চেষ্টা করো, যা শুধু তোমার। যেখানেই তুমি সেটা খোঁজো, তুমি খোঁজো এখন, এখান থেকে। সেটা এই এখনটাই।
ছয়। তাই যার ক্ষতি করা হচ্ছে, সে-ই ক্ষতি করছে, অন্য এক দৃষ্টিকোণ থেকে অনুভূত।
তোমার বাঁ হাতটা টেবিলের ওপর সমান করে রাখো। ডান হাত দিয়ে সেটাতে মারো। একটা শরীর ব্যথা পেল। কাউকে এটা বুঝিয়ে বলতে হয় না। কোনো নিয়ম খুঁজে দেখার দরকার নেই। দুটো হাত। একটা শরীর। একটা ব্যথা।
অন্যজনের ক্ষতি করা একই কাজ, আরও দূরের নাগালে। যে হাত মারে আর যে হাত মার খায়, তারা এক সচেতনতার, দুই জায়গায়। অপরের সঙ্গে নিজের মতোই আচরণ করো। কারণ সে তুমিই।
“উচিত” কোথা থেকে আসে
দর্শনে একটা পুরোনো নিয়ম আছে, আর নিয়মটা ভালো। “আছে” থেকে “উচিত” পাওয়া যায় না। জগতের কোনো বর্ণনা, তা যত সম্পূর্ণই হোক, তোমাকে বলে দেয় না কী করতে হবে।
এ পর্যন্ত যত নৈতিক নিয়ম তৈরি হয়েছে, প্রতিটিকে খাড়া রাখতে তার বাইরের কিছু একটা লেগেছে। চুরি কোরো না। তোমার প্রতিবেশীকে ভালোবাসো। প্রতিটির পেছনে দাঁড়িয়ে ছিল কোনো দেবতা, কোনো রাজা, কোনো আইন, কিংবা কেউ যা চেয়েছিল। কারণ একটা বর্ণনা রেখে যায় দুজন মানুষকে, যারা আলাদা আলাদা জিনিস চায়। তার কোনো কিছুই বলে না, কার চাওয়া জেতা উচিত।
এবার ধরো, একজন মানুষ সোমবার নিজেকে একটা কথা দেয় আর শুক্রবার সেটা ভাঙে। কেউ তাকে দুষ্ট বলে না। আমরা বলি, সে ব্যাপারটা ঠিকভাবে দেখছে না। সোমবার আর শুক্রবার একটাই জীবন। সে সেটা খরচ করেছে, যেন তা দুজন মানুষের। ঠিকভাবে দেখা শুক্রবারের চাওয়া থামায় না। তা দ্বিতীয় মানুষটাকে সরিয়ে দেয়।
পঞ্চম ধাপও একই চাল। এক সপ্তাহের ব্যবধানে নয়, এক ঘরের ব্যবধানে। তোমার চাওয়া আর আমার চাওয়া এখনো দুই দিকে টানতে পারে। যা নেই, তা হলো দ্বিতীয় কোনো মালিক। এক সচেতনতা দুটোই চায়। এক সচেতনতা দুটোরই দাম দেয়। দামদাতা একজনই।
তাই পুরোনো নিয়মটার দিকে আবার তাকাও। নিয়মটা আদেশ নিয়ে। সেটা টেকে। কোনো বর্ণনা কিছুই আদেশ করে না। এই কাজও আদেশ করে না। এটা দেখায় একজনই দামদাতা, আর দেখায় বিলটা। জোড়া দেওয়ার মতো কোনো ফাঁক কখনো ছিলই না। ফাঁকটার জন্য দরকার ছিল দ্বিতীয় এক মালিক, আর সে কখনো ছিলই না। তাকে সরিয়ে নাও, তখন নিয়মের করার মতো আর কিছুই থাকে না।
যা রয়ে যায়, তা আদেশ নয়। তা একটা দাম। অপরের সঙ্গে নিজের মতোই আচরণ করো। কেউ বলেছে বলে নয়। কারণ অপর তুমি নিজেই। তাই অপরের সঙ্গে তুমি যেমন আচরণ করো, তোমার সঙ্গেও তেমনই আচরণ হয়।
অপরের ক্ষতি করা যেন আয়নায় হাত দিয়ে ঘুষি মারা। তুমি আয়নার ভেতরের লোকটার দিকে তাক করো। তুমি ভাবো, সে অন্য কেউ। কাচ ভাঙে, আর তোমার হাত থেকে রক্ত ঝরে। শেষ পর্যন্ত ব্যথা পায় সেই একই শরীর। নিষ্ঠুর হও, আর তুমি পাও নিষ্ঠুরতাই। শাস্তি হিসেবে নয়। সেই একই হাত হিসেবে। নিয়ম আর দাম একই জিনিস।
তোমার আগে যা এসেছে, তা-ই তোমাকে গড়েছে। তা থেকে তুমি কখনো মুক্ত হবে না। আর তোমার বেছে নেওয়ার দাম থেকেও তুমি কখনো মুক্ত হবে না। এই দুটো সত্যই পুরো নিয়ম। তুমি যেখানে দাঁড়িয়ে, সেটাই গড়ে দেয় তুমি কী বেছে নাও। তোমার বেছে নেওয়ার দাম গড়ে দেয় এরপর তুমি কোথায় দাঁড়াবে। দামটাই নিয়ম। এটা মানাতে কাউকে লাগে না। বাস্তবতা হিসাব নেয়।
একটা শব্দ, যাতে কোনো ভুল না হয়। এই কাজে উচিত মানে একটাই জিনিস। কী দাম লাগে। এর মানে কখনো নয়, তোমাকে কী করতেই হবে। রেকর্ড আদেশ করে না। সে হিসাব রাখে। তুমি নিষ্ঠুর হতে পারো। হিসাব তবু আসে। এখানে উচিত মানে শুধু এটুকুই।
এটা কি শুধু কাণ্ডজ্ঞান নয়? আর কাণ্ডজ্ঞান কি আরেকটা নিয়ম নয়? আবার পড়ো। এখানে কিছুই বলে না যে তোমাকে করতেই হবে। তুমি নিষ্ঠুর হতে পারো।
আর দামের পরোয়া তোমাকে করতে হবে না। দামও তোমার পরোয়া করে না। কার্নিশ থেকে পা বাড়াও, আর তুমি পড়ে যাও। পোড়া নিয়ে তুমি পরোয়া করো কি না, আগুনে রাখা হাতের তাতে কিছু যায় আসে না। পোড়াটা ঘটে। হ্যাংওভার নিয়ে তুমি পরোয়া করো কি না, টাকিলার তাতে কিছু যায় আসে না। সকাল আসে। দাম একটা সত্য। এটা তোমার হ্যাঁ-র জন্য, তোমার চাওয়ার জন্য, বা তোমার দেখতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করে না। এটা শুধু এসে পড়ে।
তাই এই কাজ বলে না যে দামের পরোয়া করা তোমার উচিত। এটা বলে, তুমি দামটা দেবে, পরোয়া করো বা না করো। উচিত তোমাকে পরোয়া করানোর কোনো ধাক্কা নয়। এটা একটা বর্ণনা: তুমি যখন সেই এক দামদাতার ধারার উল্টো দিকে যাও, তখন কী ঘটে। যা করা হয়ে গেছে, তা আর ফেরানো যায় না। কোনো বিচারক নেই। আছে শুধু যা রয়ে যায়। যা রয়ে যায়, সেটাই দাম, আর বাস্তবতা হিসাব নেয়।
দ্বিতীয় পথ
এবার সবচেয়ে জোরালো পদক্ষেপে সরে দাঁড়াও। ধরো, প্রতিটি জানালা এঁটে বন্ধ। ভেতরে কোনো কিছুই ভাগাভাগি নেই। এক হাত আর অন্য হাত বলে কিছু নেই। শুধু তুমি আর আমি, আর এমন এক ফাঁক, যা কিছুই পার হয় না। সেই একই বাক্য তবু টেকে। দ্বিতীয় এক পথে।
এটা গড়া হয়েছিল প্রথমটার সঙ্গে একই সময়ে। যে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় শুধু এক পথে, সেটা দাঁড়িয়ে আছে এক পায়ে।
এটা শুরু হয় একটা জিনিস থেকে। যা কিছু টিকে আছে, সে টিকে থাকার জন্য কিছু একটা করে চলেছে। আর এটা কাজে লাগায় দুটো সত্য, যা যে কেউ দেখতে পায়। তুমি যা করো, তা আমাকে নাড়ায়। আর যা করা হয়ে গেছে, তা আর ফেরানো যায় না।
করিডর
এমন এক করিডরে দাঁড়াও, যার দুই পাশে সারি সারি দরজা। খোলা দরজাগুলো হলো সেই সব ভবিষ্যৎ, যেখানে তুমি এখান থেকে এখনো পৌঁছাতে পারো। তুমি সেগুলো গুনতে পারো। এটা একটা হিসাব, মনের ভাব নয়। আর তোমারটা খোলা থাকুক, এমন চাওয়ার সিদ্ধান্ত তুমি নাওনি। তুমি নিজেই সেই খোলা রাখা।
কিছুই নিজে থেকে খোলা থাকে না। চা ঠান্ডা হয়ে যায়, যদি কিছু তাকে গরম না রাখে। করিডর সরু হয়ে আসে, যদি কিছু তাকে খোলা না রাখে। তাই নিরপেক্ষ কোনো কাজ নেই। তুমি যা কিছু করো, তা হয় দরজা খোলা রাখে, নয় বন্ধ করে দেয়।
প্রতিটি সরু হয়ে আসা করিডরের শেষে একটা দেয়াল আছে। এমন এক ঋণ, যা কখনো শোধ করা যায় না। এমন এক অভ্যাস, যা ভাঙা যায় না। দেয়ালের ওপারে কিছু ভবিষ্যতে পৌঁছানো কঠিন নয়। সেগুলো আর নেই।
আর আগেভাগে করা ছোট্ট একটা সংশোধনের দাম, দেরিতে আতঙ্কের মধ্যে করা সেই একই সংশোধনের চেয়ে অনেক কম। শৃঙ্খলা কোনো গুণ নয়। এটা অঙ্ক।
দুজন মানুষ, দুটো আগুন
এবার দুটো করিডর পাশাপাশি রাখো। তুমি যা করো, তা নাড়িয়ে দেয় আমি এখনো কী করতে পারি।
ঠান্ডায় দুজন মানুষ। প্রত্যেকের একটা করে আগুন। প্রতিটি আগুন আপনা থেকেই জ্বলে জ্বলে নিভে আসে। আর প্রত্যেকে শুধু অন্যজনের আগুনে কাঠ দিতে পারে। নিজেরটায় নয়।
দুজনেই কাঠ দেয়। দুটো আগুনই ধীরে ধীরে কমে আসে। দুজনেই রাতটা পার করে।
একজন কাঠ দেওয়া থামায়। সে নিজের কাঠ রেখে দেয়। অন্যজনের আগুন আগে নিভে যায়। এখন যে থেমেছিল, সে একা বসে থাকে। কেউ তার আগুনে কাঠ দেয় না। সেটাও নিভে যায়। সে কাঠ দিয়ে গেলে যখন নিভত, তার চেয়ে আগে।
সে একটু কাঠ বাঁচাল। এর দাম তাকে দিতে হলো রাতটা দিয়ে।
একটা শর্ত আছে, খোলাখুলি বলা হলো। এটা খাটে, যখন আমি তোমাকে যা দিই, তোমার কাছে তার মূল্য আমার কাছে তার দামের চেয়ে বেশি। এমন এক ঘণ্টা, যা আমার কাছে সস্তা আর তোমার কাছে দামি। যেখানে সেটা টেকে, সেখানে যে থামে, সে যতটা বাঁচায় তার চেয়ে সবসময় বেশি হারায়। পুরো অঙ্কটা, অনেক মানুষের জন্য, লম্বা সময় ধরে, আছে the420code.org-এ। টেকে সেটাই, যা যতটা নেয়, তার চেয়ে বেশি যোগ করে। নিষ্ঠুরতা টেকে না। আশার কথা নয়। হিসাবের কথা।
দুটো সৎ সীমা
যে-ই এখনো টিকে থাকার জন্য কাজ করে চলেছে, এই পথ তাকে বাঁধে। যে সত্যিই থেমে গেছে, এটা তার কাছে পৌঁছায় না।
আর কিছু বিল এসে পড়ে তখন, যখন যে লোকটা সেগুলো জমিয়েছিল, সে আর নেই। সে আশি বছর বয়সে আরামে মারা যায়, এমন সব মানুষের কাছ থেকে নিয়ে, যারা তার পরেও বেঁচে থাকে। এই পথ তার কাছে পৌঁছায় না। গর্তটা ঢাকতে প্রথম পথ থেকে কিছুই ধার নেওয়া হয় না।
যেখানে এটা ভাঙবে
প্রথম পথ দাঁড়িয়ে আছে একটা জিনিসের ওপর। একটাই বাস্তবতা, সব জায়গা থেকে পড়া, এখন। যা একে ভাঙত, তা হলো দ্বিতীয় এক বাস্তবতা। রেকর্ডের দ্বিতীয় এক ধারা, যাকে কখনো, এমনকি তত্ত্বগতভাবেও, এর মধ্যে আনা যাবে না।
দুটো রেকর্ডে তা হবে না। দুজন মানুষে তা হবে না। দুটো দৃষ্টিভঙ্গিতে তা হবে না। এটা কখনো দেখানো হয়নি।
আরেকটা শর্ত হলো একটা পরিমাপ। সেটা প্রকাশ্যে লেখা আছে the420code.org-এ। এর যেকোনো একটা পূরণ হলে প্রথম পথ পড়ে যেত। দ্বিতীয় পথ তবু দাঁড়িয়ে থাকত।
দ্বিতীয় পথটি ভেঙে পড়বে, যদি কেউ এমন একটি দল দেখাতে পারে, যারা দুই আগুনের মতো একে অপরের সঙ্গে বাঁধা, যেখানে একজন কিছু না দিয়ে শুধু নিয়েই যায় আর চিরকাল নিজের দরজাগুলো খোলা রাখে। অথবা এমন কিছু, যা অস্তিত্বে থাকার জন্য কিছুই না করে টিকে থাকে। অথবা যদি দেখাতে পারে যে এর একমাত্র শুরুর জায়গাতেই আগে থেকে সেই “উচিত” লুকিয়ে আছে, যা এটা খুঁজে পাওয়ার দাবি করে।
বেড়া
একটি রেখা নিয়ে কোনো দর-কষাকষি চলে না। কেউ যদি কখনো এই যুক্তি দিয়ে বলে যে কোনো জীবন একটি জীবনের চেয়ে কম, কোনো জানালা একটি জানালার চেয়ে কম, তবে তা বাতিল। সংশোধিত নয়। বাতিল।
সেই বাক্যটি খুঁজে বের করো, যেখানে একটি নিয়ম যোগ করা হয়েছে। একটিও নেই। আছে একটি রেকর্ড। আছে তা থেকে যা বেরিয়ে আসে। আর আছ তুমি, যা বাকি রইল তা হাতে ধরে।
দাম টেবিলের ওপর রাখা। একটি রেকর্ড সেটা সেখানে রেখেছে। বেছে নেওয়াটা তোমার হাতে। আর কারও নয়। তোমার ওপরে কোনো কর্তৃত্ব নেই। তোমার পেছনে কোনো বিচারক নেই। দায় এসে থামে তোমার কাছেই। এটাই তোমার স্বাধীনতার পুরোটা। এটা মুক্তির, আর এটা ভয়ের, আর এটা তোমার। দয়া বেছে নাও, আর জগৎ বড় হয়। নিষ্ঠুরতা বেছে নাও, আর তা ছোট হয়। বাস্তবতা দুই ক্ষেত্রেই হিসাব করে।
নিষ্ঠুর হয়ো না। দয়ালু হও।
পুরো প্রতিপাদন, প্রতিটি গবেষণাপত্র আর যে প্রতিটি শর্তে এটা মরে যায় সেগুলো সহ, the420code.org-এ: the420code.org/one-awareness/